সঞ্চয়পত্র নিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের স্কিম-বিবরণ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন থেকে — প্রতিটি সংখ্যা সূত্রসহ।
সঞ্চয়পত্র সরকারের জাতীয় সঞ্চয় স্কিম: জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর বিক্রি করে, মুনাফার হার ঠিক করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এখন চারটি সঞ্চয়পত্র চালু — পরিবার, পেনশনার, ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ ও তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক; মেয়াদপূর্তিতে হার ১১.৮৩% থেকে ১১.৯৮%।
সূত্র: জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর — সঞ্চয়পত্রসমূহ (স্কিমের বিবরণ) +১০
যাচাই ২২ অক্টোবর ২০২৬
হার ও মুনাফা
এখন সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কত?
জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদে মোট বিনিয়োগ ৭.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে মেয়াদপূর্তিতে পরিবার ১১.৯৩%, পেনশনার ১১.৯৮%, ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ ১১.৮৩%, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক ১১.৮২%। ৭.৫ লাখের বেশি হলে যথাক্রমে ১১.৮০%, ১১.৮০%, ১১.৮০%, ১১.৭৭%। বিস্তারিত
কোন সঞ্চয়পত্রে মুনাফা সবচেয়ে বেশি?
পেনশনার সঞ্চয়পত্রে (১১.৯৮%), তবে এটি শুধু অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী ও পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য। এরপর পরিবার সঞ্চয়পত্র (১১.৯৩%) — মহিলা, প্রতিবন্ধী ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য। সবার জন্য খোলা দুটির মধ্যে ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ ১১.৮৩% আর তিন মাস অন্তর ১১.৮২%।
৭.৫ লাখ টাকার নিয়মটা কী?
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে হার দুই ধাপে ঠিক করা: ৭.৫০ লাখ টাকা ও এর নিচে, আর ৭.৫০ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে। কোন ধাপ প্রযোজ্য তা ঠিক হয় পূর্বের বিনিয়োগসহ এক বা একাধিক স্কিমে মোট (ক্রমপুঞ্জিভূত) বিনিয়োগ দেখে।
প্রতি লাখে মাসে কত টাকা পাওয়া যায়?
৭.৫ লাখ পর্যন্ত বিনিয়োগে উৎসে করের আগে: পরিবার সঞ্চয়পত্রে মাসে ৳৯৯৪, পেনশনার সঞ্চয়পত্রে মাসে ৳৯৯৮, তিন মাস অন্তর সঞ্চয়পত্রে প্রতি ৩ মাসে ৳২,৯৫৫। ৫ বছর মেয়াদী সঞ্চয়পত্রে মাসিক মুনাফা নেই — ১ লাখে ৫ বছর শেষে একসঙ্গে ৳৫৯,১৫০। বিস্তারিত
মুনাফা কীভাবে হিসাব হয়?
পরিবার সঞ্চয়পত্র নীতিমালার উদাহরণে মাসিক মুনাফা = মূল টাকা × মেয়াদপূর্তির হার ÷ ১২ (যেমন সে সময়ের ১১.৫২% হারে ১ লাখে মাসে ৯৬০ টাকা)। একই নিয়মে তিন মাস অন্তর স্কিমে ÷ ৪ আর ৫ বছর মেয়াদী সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে মূল × হার × ৫ ধরে আমরা হিসাব দেখাই। এরপর উৎসে কর কাটা হয়।
আগে কেনা সঞ্চয়পত্রের হার কি বদলায়?
০১ জুলাই ২০২৫ তারিখের পূর্বে ইস্যুকৃত সকল জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ক্ষেত্রে ইস্যুকালীন মেয়াদে ইস্যুকালীন সময়ের মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে; পুনঃবিনিয়োগের ক্ষেত্রে পুনঃবিনিয়োগের তারিখের মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে। বিনিয়োগকারী ইস্যুকালীন সময়ে বিদ্যমান মুনাফার হার বিনিয়োগকালের পূর্ণ মেয়াদের জন্য প্রাপ্য হবেন।
হার কত দিন পর পর বদলায়?
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রতি ৬ মাস পর হার পুনরায় নির্ধারণের কথা। ৩০ জুন ২০২৫ এর প্রজ্ঞাপনে জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৫ এর জন্য এই হার ঠিক হয়। ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ এর প্রজ্ঞাপনে জানুয়ারি–জুন ২০২৬ এর জন্য হার কমানো হলেও ৪ জানুয়ারি ২০২৬ এর প্রজ্ঞাপনে তা বাতিল করে আগের হার ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বহাল রাখা হয়; ২ জুলাই ২০২৬ এর প্রজ্ঞাপনে একই হার জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বলবৎ। বিস্তারিত
কে কিনবেন, কত টাকা
পরিবার সঞ্চয়পত্র কারা কিনতে পারেন?
১৮ (আঠার) ও তদূর্ধ্ব বয়সের যে কোন বাংলাদেশী মহিলা; যে কোন বাংলাদেশী শারীরিক প্রতিবন্ধী (পুরুষ ও মহিলা); ৬৫ (পঁয়ষট্টি) ও তদূর্ধ্ব বয়সের যে কোন বাংলাদেশী (পুরুষ ও মহিলা) নাগরিক। একক নামে সর্বোচ্চ ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) লক্ষ টাকা। যৌথ নামে কেনা যায় না। বিস্তারিত
পেনশনার সঞ্চয়পত্র কারা কিনতে পারেন?
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারী; সুপ্রীম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত মাননীয় বিচারপতিগণ; সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য; মৃত চাকরিজীবীর পারিবারিক পেনশন সুবিধাভোগী স্বামী/স্ত্রী/সন্তান। প্রাপ্ত আনুতোষিক (Gratuity) ও ভবিষ্য তহবিলের অর্থ (চূড়ান্ত) মিলিয়ে একক নামে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা। বিস্তারিত
৫ বছর মেয়াদী ও তিন মাস অন্তর সঞ্চয়পত্র কারা কিনতে পারেন?
সকল শ্রেণি ও পেশার বাংলাদেশী নাগরিক; এছাড়া স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল, প্রত্যয়িত খামারের আয়, অটিস্টিক সহায়ক প্রতিষ্ঠান, নিবন্ধিত অনাথ আশ্রম ও প্রবীণ আশ্রয় কেন্দ্র। ব্যক্তির ক্ষেত্রে একক নামে ৩০ লক্ষ অথবা যুগ্ম-নামে ৬০ লক্ষ টাকা; প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ভবিষ্য তহবিলে মোট স্থিতির ৫০%, তবে সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা; ফার্মের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা; অটিস্টিক সহায়ক, অনাথ শিশু ও প্রবীণ আশ্রয় প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা। বিস্তারিত
সব মিলিয়ে সর্বোচ্চ কত টাকার সঞ্চয়পত্র কেনা যায়?
৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পরিবার সঞ্চয়পত্রে সমন্বিতভাবে একক নামে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা অথবা যুগ্মনামে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা যাবে। পরিবার সঞ্চয়পত্র যৌথ নামে ক্রয় করা যায় না। পেনশনার সঞ্চয়পত্রের সীমা আলাদা: প্রাপ্ত আনুতোষিক (Gratuity) ও ভবিষ্য তহবিলের অর্থ (চূড়ান্ত) মিলিয়ে একক নামে সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা।
সর্বনিম্ন কত টাকার সঞ্চয়পত্র কেনা যায়?
মূল্যমান অনুযায়ী: ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ৳১০ থেকে, পরিবার সঞ্চয়পত্র ৳১০,০০০ থেকে, পেনশনার সঞ্চয়পত্র ৳৫০,০০০ থেকে, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ৳১,০০,০০০ থেকে।
যৌথ নামে কেনা যায়?
৫ বছর মেয়াদী ও তিন মাস অন্তর সঞ্চয়পত্রে যুগ্ম-নামে সর্বোচ্চ ৬০ লক্ষ টাকা কেনা যায়। পরিবার সঞ্চয়পত্র যৌথ নামে ক্রয় করা যায় না।
কেনা, ভাঙানো ও নমিনি
সঞ্চয়পত্র কোথায় কেনা যায়?
জেলা সঞ্চয় অফিস ও জাতীয় সঞ্চয় বিশেষ ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা, বাণিজ্যিক (তফসিলি) ব্যাংক এবং ডাকঘর থেকে ক্রয় ও নগদায়ন করা যায়।
মেয়াদের আগে ভাঙালে কী হয়?
প্রয়োজনে মেয়াদপূর্তির আগেও সঞ্চয়পত্র নগদায়ন করা যায়; তবে এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়ন করলে কোন মুনাফা পাওয়া যায় না। মেয়াদপূর্তির পূর্বে নগদায়ন করলে ছকে উল্লিখিত হারে মুনাফা প্রাপ্য হবে এবং অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধিত হয়ে থাকলে তা মূল টাকা হতে কর্তন করে সমন্বয়পূর্বক অবশিষ্ট মূল টাকা পরিশোধ করা হবে। যত বছর রেখেছেন সেই বছরের হার প্রযোজ্য — যেমন পরিবার সঞ্চয়পত্র ১ বছর পর ভাঙালে ৯.৮১%। বিস্তারিত
নমিনি রাখা যায়? ক্রেতা মারা গেলে কী হয়?
এক বা একাধিক নমিনি রাখা যায়, পুরো বা আংশিক অংশের জন্য; নমিনি যেকোনো সময় পরিবর্তন বা বাতিল করা যায়। ক্রেতার মৃত্যু হলে নমিনি বা উত্তরাধিকারীকে লিখিতভাবে ইস্যু অফিসকে জানাতে হয়। ক্রেতার মৃত্যুর পর নমিনি সাথে সাথেই নগদায়ন করতে পারেন অথবা মেয়াদ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত মুনাফা তুলতে পারেন।
মেয়াদ শেষে আবার একই সঞ্চয়পত্রে রাখা যায়?
১ ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক, পরিবার ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে শুধু মূল বিনিয়োগকৃত অর্থ পুনঃবিনিয়োগ করা যায়; ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে মুনাফাসহ। একই প্রজ্ঞাপনে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ত্রৈমাসিকের বদলে মাসিক মুনাফা চালু হয়। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে মেয়াদপূর্তির পূর্বে ইস্যু অফিসে যোগাযোগ করলে স্বয়ংক্রিয় পুনঃবিনিয়োগ হয়। পুনঃবিনিয়োগে সেই তারিখের হার প্রযোজ্য। বিস্তারিত
এক বছরের আগে ভাঙালে কিছু পাব?
না — জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের ক্রয় ফরমের নির্দেশনা অনুযায়ী এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগে নগদায়ন করলে কোন মুনাফা পাওয়া যায় না; মাঝে মুনাফা পেয়ে থাকলে তা মূল থেকে কেটে নেওয়া হয়।
সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে ঋণ নেওয়া যায়?
পরিবার সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে ঋণ নেওয়া যায় না (পরিবার সঞ্চয়পত্র নীতিমালা)।
কাগজপত্র, TIN ও রিটার্ন
সঞ্চয়পত্র কিনতে কী কী লাগে?
ক্রয় ফরমে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক (NID না থাকলে পাসপোর্ট বা জন্ম নিবন্ধন); ক্রেতা ও নমিনির পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত ছবি; নিজের নামে ব্যাংক হিসাবের বিবরণ — মুনাফা ও আসল BEFTN-এর মাধ্যমে সেই হিসাবে জমা হয়। টাকা নগদ বা চেকে দেওয়া যায়।
সঞ্চয়পত্র কিনতে TIN বা রিটার্ন লাগে?
৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কিনতে TIN দাখিলের বাধ্যবাধকতা নেই (জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের পত্র, ৭ জুলাই ২০২২)। ১০ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (PSR) লাগে (আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ২৬৪; ১ জুলাই ২০২৫ থেকে, আয়কর নির্দেশিকা ২০২৬-২৭)। ৫ থেকে ১০ লাখের মধ্যে ক্রয় ফরমে TIN “প্রযোজ্য ক্ষেত্রে” লেখা — ইস্যু অফিসে জেনে নিন।
মুনাফা কীভাবে পাব?
মুনাফা ও মেয়াদ শেষে আসল সরাসরি আপনার দেওয়া ব্যাংক হিসাবে (BEFTN) জমা হয় — পরিবার ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রে প্রতি মাসে, তিন মাস অন্তর সঞ্চয়পত্রে প্রতি ৩ মাসে, ৫ বছর মেয়াদী সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে একসঙ্গে।
নিজের সঞ্চয়পত্রের তথ্য অনলাইনে দেখা যায়?
নিজের সঞ্চয়পত্রের তথ্য জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অনলাইন সেবায় দেখা যায়: nsd.finance.gov.bd/selfreport
কর
সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় কত কর কাটে?
আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ১০৫ অনুযায়ী সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে ১০% হারে উৎসে কর কাটা হয়; পেনশনার সঞ্চয়পত্রে মোট বিনিয়োগ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে উৎসে কর নেই। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর পরিপত্র ২০২৫-২৬ এর তালিকায় সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে কাটা উৎসে কর ন্যূনতম কর হিসেবে চিহ্নিত।
৫ লাখ টাকা পর্যন্ত কি ৫% কর কাটে?
২০১৯ সালের এস.আর.ও. নং ২৬৪-আইন/আয়কর/২০১৯ অনুযায়ী মোট বিনিয়োগ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে হার ছিল ৫%। সেটি বাতিল হওয়া আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর অধীনে জারি; আয়কর আইন, ২০২৩ এর ধারা ১০৫ এ হার ১০% এবং ২০২৩ এর পরের কোনো সরকারি নথিতে ৫% হারের উল্লেখ আমরা পাইনি। আপনার অফিস ৫% কাটলে ক্যালকুলেটরে উৎসে কর ঘরে ৫ লিখে দেখুন।
পেনশনার সঞ্চয়পত্রে কর কত?
পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা পর্যন্ত সর্বমোট বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার উপর কোন উৎসে কর কর্তন করা হয় না। ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকার অধিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার উপর ১০% হারে উৎসে কর কর্তন করা হয়। বিস্তারিত